সাংস্কৃতিক যুদ্ধ -LGBTQ /BTS এবং অন্যান্য মুভমেন্ট

পৃথিবীতে এখন চাইলেই এক দেশ আরেক দেশ দখল করতে পারে না। বিভিন্ন ইস্যু বা ঝামেলা হয়। তবে অনেক শক্তিশালী হলে অবশ্য আক্রমণ করে বসে। কাছাকাছি শক্তির হলে আক্রমণ করার কথা ভাবে না। শুরু করে কোল্ড ওয়ার।

© কলা বিজ্ঞানী

আগে কিন্তু এমন ছিলো না। সম্রাটরা তাদের রাজ্য ও প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়াতে আশেপাশের এলাকা দখল করেছে। মানব সমাজের মৌলিক ইতিহাস মূলত যুদ্ধ আর ধর্মের ইতিহাস। এই যুদ্ধগুলোর অনেকটা আবার ছিলো ধর্মযুদ্ধ। কতক ছিলো ব্যক্তিগত দন্দ্ব বা ব্যক্তিগত আদর্শ ও ক্ষমতা প্রসারের জন্যে। 

বর্তমানকালে একটা যুদ্ধ খুব প্রকট সেটা হলো সাংস্কৃতিক যুদ্ধ। আপনি আপনার আদর্শ আর সংস্কৃতির প্রচার প্রতিষ্ঠা চান। সেটা হতে পারে রাজনৈতিক আদর্শ, হতে পারে দেশীয় আচার, হতে পারে ধর্মীয় সংস্কৃতি আবার হতে পারে ব্যক্তিগত আদর্শ। এসবই সম্ভব সাংস্কৃতিক যুদ্ধের কারন। এখানে ভূমি দখল মূল কথা নয় বরং মানুষের জীবন মন দখল। অন্য মানুষ আপনার মতো চিন্তা করবে যার ফলে আপনি যা চিন্তা করেন তা পালন করাটা সুখকর হবে।

এখন এই সাংস্কৃতিক যুদ্ধের অস্র কি? ট্যাংক গোলাবারুদ? নাহ। এর মূল অস্ত্র নাটক, সিনেমা, গান, তথা মিডিয়া। কোন ভূমিতে যখন আপনি এই যুদ্ধ শুরু করবেন তখন কিছু সমমনা লোক সেখানে তৈরি করতে হবে। এরাই আপনার হয়ে কাজ করবে। এটা যতটা না শক্তি প্রয়োগ তার চেয়ে বেশি কৌশল। স্লো পয়জনিং। কেউ টেরো পাবে না কিন্তু আনন্দ বিনোদনের নামে গিলে খাবে। এই যুদ্ধের অস্ত্র ভালোবাসা, স্নেহ, মোহ। কোন মারামারি কাটাকাটি নেই। 

বাংলাদেশেও আমরা এই যুদ্ধের বিস্তার দেখছি। পশ্চিমা ও বিজাতীয় সংস্কৃতি আমাদের দেশে নতুন করে একটা ঢেউ ফেলেছে। বিটিএস, LGBT মুভমেন্ট ইত্যাদি। টার্গেট আমাদের বাচ্চারা, যুবারা। এগুলো মোটেও নতুন না। আগে একরকম ছিলো এখন আরেকটু এগিয়েছে। 

এই যুদ্ধের দুটি প্রতিপক্ষ কারা। বলার অপেক্ষা রাখে না একটা হলো ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক বিজাতীয় সংস্কৃতি ও অপর পক্ষ মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি। মুসলিমরাও কি চায় না তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ুক সারা দুনিয়ায় প্রতিটি অলিতে গলিতে? অবশ্যই চায়। এই চাওয়াটা বরং ফরজ বা আবশ্যিক করা হয়েছে। তাহলে তারা চাইবে না কেন। সবাই চাইবে তার চিন্তা দর্শন ছড়িয়ে পড়ুক। তবে চাওয়ার মাত্রাটা ভিন্ন। এই চাওয়া বাস্তবায়নের জন্য সবার প্রচেষ্টা তাই ভিন্ন হয়। সবচেয়ে তীব্র চাওয়া দুটি দলের। আল্লাহর দল আর শয়তানের দল। 

শয়তানের শয়তানি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই আসলে একটা চিরন্তন শত্রুতা তৈরি হয়েছে। এটাই ফ্যাক্ট। আপনি হয় আল্লাহর হয়ে কাজ করেন নতুবা শয়তানের হয়ে। মোটা দাগে বিষয়টা এমন। এখন যদি আপনি বলেন যে আপনি নিরপেক্ষ ও নিস্ক্রিয় তাহলে মূলত আপনি কোন দলে বুঝতে পারছেন? ধরুন আপনি নামাজের সময় নামাজও পড়ছেন না আবার ঐ সিনেমাও দেখছেন না। বলুনতো আপনি কার চাওয়া পূরণ করছেন? 

আমাদের সন্তানরা আসলে আমাদের কাছে একটা আমানত বা বন্ধকি সম্পত্তি। কিভাবে এদের জন্য আমরা তাদের চলার পথ ঠিক করে দিতে পারি যাতে তারা আল্লাহর দিকে অগ্রসর হয় সেটাই মূল এসাইনমেন্ট। চলমান যুদ্ধে আমাদের বাচ্চারা কোন দলের হয়ে যুদ্ধ করবে সেটা কিন্তু অনেকটা পিতামাতাই ঠিক করে থাকেন। সুতরাং সাবধানে থাকতে হবে ইনশাআল্লাহ। বাচ্চা অবস্থায় ট্রেনিং দিবেন শয়তানী আর বড় হয়ে লড়বে আল্লাহর জন্য সেটা বিরল।


লেখক: SM Nahid Hasan

Post a Comment