২০১২ ঈসায়ীতে উন্নত ও সভ্য দেশ জার্মানিতে খতনা নিষিদ্ধ করার রায় আসে আদালত থেকে। আদালত বলে যে খতনার মাধ্যমে শিশুর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শিশুর শরীরে ক্ষত করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১০ ঈসায়ীতে। এক মুসলমান ডাক্তার এক বাচ্চার খতনা করান। খতনার কিছুদিন পর বাচ্চাটার ব্লিডিং শুরু হলে বাবা-মা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল পুলিশকে ডেকে আনে। পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এক পর্যায়ে বিষয়টা আদালতে গড়ায়।
আদালত রায় দেয় যে ডাক্তার এখানে কোন আইন ভাঙ্গেন নাই। তবে এরপর থেকে কোন ধর্মীয় কারণে খতনা করা যাবে না। বাপ-মার ইচ্ছা বা ধর্ম কি বলল না বলল এইগুলা মূখ্য না। এইখানে মূখ্য হচ্ছে বাচ্চার কিসে ভাল সেটা।
মূলত জার্মান কোর্ট আসলে "বারবারিয়ান" মুসলমানদের শায়েস্তা করার ধান্ধা থেকেই এই রায়টা দেয়। কিন্তু বাধ সাধে ইহুদীরা- কারণ জন্মের ৮ দিনের মাথায় ছেলে বাচ্চার খতনা করানোটা ওদের ধর্মে ফরজ। মুসলমানরাও ইহুদীদেরকে যেয়ে বলে যে এই ব্যাপারটা নিয়ে যেন তারা আন্দোলন করে।
এইবার সবাই নড়েচড়ে বসে। রাজনীতিবিদরা বলে, আয়হায়! এটা তো দেখি পুরাই এন্টিসেমিটিজম। জিয়ুইশ লাইফ মাস্ট বি মেড পসিবল ইন জার্মানি। নেভার এগেইন। কাজেই তারা খতনা নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
মুসলমানরা তো অচ্ছ্যুত বারবারিয়ান। বাড়াবাড়ি করলেই সন্ত্রাসবাদ হ্যানত্যান তো আছেই। মুসলমানরা বসে পপকর্ন খাইতে থাকে। ওদিকে জিয়ুইশ লবির প্রেশারে ঐবছর অক্টোবরে জার্মান ক্যাবিনেটে আইন পাশ হয় যে খতনা জায়েজ।
এঞ্জেলা মের্কেল বলেন, "যদি ইহুদীদেরকে তাদের রিচুয়াল পালন করতে দেওয়া না হয়, তাহলে জার্মানি হাসির খোড়াকে পরিনত হবে।"
অথচ ঘটনার সূত্রপাত মুসলমানের খতনা নিয়ে। মুসলমানকে তাদের রিচুয়াল পালন করতে দেওয়া না হইলে কি হবে সেটা নিয়ে মের্কেল কিছুই বলেন নাই। এইসব বারবারিয়ান অসভ্যদের নিয়ে উন্নত সভ্য ও শাদা
দের দেশের মহান নেতার এত কথা বলার দরকারটাই বা কি? এইজ অব কনসেন্ট আর হার্ম প্রিন্সিপাল দিয়েই তো বোঝা যায় খতনা হইল খারাপ জিনিস।
লেখকঃ মোহাম্মদ ইশরাক
