আপনার চারপাশ থেকে র্যান্ডমলি ৫জন শিক্ষিত লোক খুঁজে বের করেন। এবার তাদের দশটা অতি সাধারণ প্রশ্ন করেন।
১) চ্যাটজিপিটি কি?
২) কিভাবে ফিলিস্তিন অভিভাবকহীন হলো?
৩) মুদ্রাস্ফীতি কি?
৪) প্রতিশ্রুত মাসীহ কে? কেন ওনাকে ওরা হত্যার চেষ্টা করলো?
৫) কিভাবে বিদেশে ভিসা/ নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়?
৬) কখন, কিভাবে এবং কেন কাগজের টাকা সত্যিকারের স্বর্ণ বা রূপার মুদ্রাকে প্রতিস্থাপন করলো?
৭) স্টক এক্সচেঞ্জ কি?
৮) মানবাধিকার সংস্থা কেন কোন কোন গণহত্যায় নীরব, আবার কোথাও সরব?
৯) মার্ভেল সিরিজ কি?
১০) দাজ্জালের ফিতনা কি কি?
![]() |
| © Collected |
এবারে তাদের জবাবের উপর দুই ভাগে মার্ক করেন। আপনি কি জোড় বিজোড় প্রশ্নের উত্তরে কোন ট্রেন্ড দেখতে পাচ্ছেন?
হ্যাঁ, এই ট্রেন্ড পাবার জন্যই ওরা শত বছর ধরে অপেক্ষা করছে। একটা চিন্তাহীন জেনারেশন তৈরি হবে, যারা হবে আত্নকেন্দ্রিক। তদের মূল আগ্রহ থাকবে প্রাচুর্যে আর ভোগে। তারা অনেক কঠিন বিষয় বুঝবে কিন্তু সহজ বিষয় তাদের বুঝানো হবে না।
তারা ইতিহাসকে ভয় পাবে, কারণ তাদের মনে হবে ইতিহাস মানেই যুদ্ধবিগ্রহ। তারা অনিশ্চিত ভবিষ্যতকে নিয়ে মেতে থাকবে অথচ বর্তমান তাদের বিচলিত করবে না। তারা মনে করবে তারা শিক্ষিত, অথচ তারা একটি পরিকল্পনার অংশ যেখানে তারা ততটুকুই জানবে যততুকু তাদের জানানো হয়েছে। তারা ভাববে প্রতিবাদের ভাষা মৌখিক। তাদের মস্তিস্ক চিন্তাশূন্য করতে বছরের পর বছর কারিকুলামে থাকবে কিছু ধূর্ত শব্দজট।
ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ না থাকা প্রজন্মকে ধোঁকা দেয়া খুবই সহজ। সেই প্রজন্মকে শিখানো হবে সুন্দর পৃথিবী গড়বে বিজ্ঞান। আর সেই বিজ্ঞানপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা নির্ঘুম রাত কাটিয়ে পৃথিবীর বড় বড় ডিফেন্স ল্যাবের অর্থায়নে তৈরি করবে সব মরণাস্ত্র, যা দিয়ে কেবলই কিছু অশিক্ষিত প্রাণকে বিদায় জানানো হবে। মাসশেষে তারা বাড়ি গাড়ির লোন শোধ করবে, পোস্ট দিবে উই স্টেন্ড ফর মাজলুম। তারপরে পে চেকে এসে দেখবে তাদের ট্যাক্সের টাকায় মারা হচ্ছে নিরীহ শিশু, যার অপরাধ ছিলো একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ডে জন্ম নেয়া! কি অদ্ভুত এই শিক্ষিত প্রজন্ম!
লিখেছেনঃ সাজিদ হাসান
