মনে মনে ছেলে আর মনে মনে মেয়ে—এই কনসেপ্ট যে কতোখানি হাস্যকর তা একটা বাচ্চাও বুঝে ফেলবে যদি তাকে মিনিট দশেক জিনিসটা বোঝানো হয়৷ কিন্তু আমাদের পলিসি-মেকার, পাঠ্যপুস্তক প্রণেতারা কেনো এসব বুঝতে পারছেন না (অথবা বুঝতে চাইছেন না) সেটাই বড় আশ্চর্যের!
কিন্তু, এটার পেছনে অনেক বড় একটা এজেণ্ডা আছে। সেই এজেণ্ডাটা হলো—সমকামিতা।
![]() |
| © কলা বিজ্ঞানী |
বাংলাদেশ যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ, এখানে আপনি এমন কোনো মতবাদ সরাসরি ছেড়ে দিতে পারবেন না যেটার বিষয়ে স্পষ্ট কুরআন হাদিসে নিষেধাজ্ঞা আছে কিংবা যেটাকে কুরআন আর হাদিসে খুব স্পষ্টভাবে ঘৃণিত পাপ হিশেবে উল্লেখ করা হয়েছে৷ ‘সমকামিতা’ সেগুলোর একটা।
আপনি যদি বলেন যে সমকামিতাকে আইন করে নর্মালাইজ করবেন, গোটা দেশ আপনার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠবে এবং আপনার এজেণ্ডা কিন্তু মাঠে মারা যাবে৷ তখন আপনি কী করবেন? আপনাকে কৌশলের আশ্রয় নিতে হবে৷
সমকামিতার কনসেপ্টটা কী? সমলিঙ্গের মানুষের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, তাই না?
এখন, কোনো একটা ছেলে এসে যদি বলে তার আসলে মেয়েদের বিষয়ে কোনো আসক্তি কাজ করে না, ছেলেদের প্রতিই সে আকর্ষণ বোধ করে, আপনি কিন্তু মুহূর্তেই তাকে ‘সমকামি’ ক্যাটাগরিতে ফেলে দিতে পারবেন এবং ধর্মীয়ভাবে তাকে বয়কটও করতে পারবেন।
তবে, ছেলেটা যদি এসে বলে—শারীরিকভাবে সে ছেলে হলেও, মনে মনে সে নিজেকে মেয়ে মনে করে৷ যেহেতু সে মনে মনে মেয়ে এবং এই ‘মনে মনে’ মনে হওয়াটাই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য, সুতরাং, শারীরিকভাবে ছেলের শরীর নিয়েও সে যদি কোনো ছেলের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে, সেটাকে কিন্তু সমকামিতা বলা যাবে না। কারণ, সে কিন্তু ‘মনে মনে’ মেয়ে এবং মেয়ে হয়ে সে পছন্দ করছে একজন ছেলেকেই।
এই ‘মনে মনে’ ছেলে-মেয়ের কনসেপ্টটা কীভাবে সমকামিতাকে নর্মালাইজ করে ফেলবে বুঝতে পারছেন তো?
ট্রJenণ্ডার মতবাদটাও এরকমই। সরাসরি পারা যাচ্ছে না, ব্যস একটা সার্জারি করে ফেলো। কাজ শেষ।
সরাসরি ‘সমকামিতা’র কথা বললে তো সকলে সহজে বুঝে ফেলবে, কিন্তু ‘জেণ্ডার আইডেন্টিটি’, ‘লিঙ্গ বৈচিত্র’ ইত্যাদি হাবিজাবি বকওয়াজ শব্দ ব্যবহার করলে তো সাধারণ মুসলিম বুঝবে না, ফলে ওই কৌশলটাই গ্রহণ করা হয়েছে৷ পশ্চিমারা এই বিকৃত রুচি এখন সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে।
এই বিকৃত মতবাদগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের কন্ঠকে সরব রাখতে হবে৷ চোখের সামনে আমাদের উঠতি প্রজন্মকে আমরা ধ্বংস হয়ে যেতে দেখতে পারি না।
লেখকঃ আরিফ আজাদ
